• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ভারতের ঐতিহাসিক দেওবন্দ মাদরাসার নিচে শিবলিঙ্গ থাকার দাবি বন্যায় স্থগিত হওয়া আলিম পরীক্ষা শুরু ২০ আগস্ট, নতুন সূচি প্রকাশ চরমপন্থার ছায়ায় বাংলাদেশ: ইতিহাস, বিতর্ক ও উদ্বেগ তরুণ রাজনীতি ও ইসলামপন্থী জোট—নতুন সমীকরণে কোন পথে বাংলাদেশ? জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কি ধর্মীয় উগ্রবাদী স্বপ্নের পুনরুজ্জীবন ঘটাচ্ছে? বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ইসলামিক উগ্রবাদী উত্থান নিয়ে কিছু ভাবনা বিএনপি–জামায়াত প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের পুনরুত্থান ইস্যুতে জনমনে উদ্বেগ গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনীতির উত্থান ও মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হুমকি কোন পথে বাংলাদেশ?

তরুণ রাজনীতি ও ইসলামপন্থী জোট—নতুন সমীকরণে কোন পথে বাংলাদেশ?

মোহাম্মদ আব্দুল কাদের সুমেল
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, নেজাম-ই-ইসলাম পার্টির মতো ইসলামী শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষী ইসলামপন্থী দলগুলোর উত্থান ঘটে। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বক্তব্য, ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি, ভাঙচুর এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন যেমন ছায়ানট-এর ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচ্য।

আসন্ন নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য আশঙ্কার বিষয় হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বে সম্ভাব্য বৃহত্তর ইসলামী জোটের আত্মপ্রকাশ। দলটি পূর্বে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। অতীত ভোটের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে দলটি সর্বোচ্চ ১২.১৩% ভোট পায়, আর ২০০৮ সালে পায় ৪.৭০% ভোট। এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিকতা বহন করে।

কিন্তু বর্তমান উদ্বেগের বিষয় হলো, এ দলটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপিকে নিয়ে বৃহত্তর ইসলামী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। যা ধারণা করা হচ্ছে, যদি আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলটি সরকার গঠনে সক্ষম হয় কিংবা শতাধিক আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদে অবস্থান নেয়, তবে এটি আগামীর বাংলাদেশকে নিঃসন্দেহে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর আশ্রয়ে বিপর্যস্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।

এছাড়া দলের আমির শফিকুর রহমান-এর একটি বক্তব্যে তিনি কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি ঘরের বাইরে কর্মজীবী নারীদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্য সারা দেশে নারীসমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নারী অধিকার, সমতা এবং অংশগ্রহণের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

নিঃসন্দেহে, এমন ধর্মাশ্রিত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটলে তা আশঙ্কার বিষয়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বৃদ্ধি পেলে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ও সাংস্কৃতিক চরিত্র নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

[টিকা: “তরুণ রাজনীতি ও ইসলামপন্থী জোট—নতুন সমীকরণে কোন পথে বাংলাদেশ?” শিরোনামে লিখাটি এথিস্ট নোট ওয়েবসাইটে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; প্রকাশিত হয়। লিখানে বর্তমানে লিখাটি ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে পুনঃপ্রকাশিত করা হলো]


আরও পড়ুন